শনিবার, ১১ Jul ২০২০, ১২:৫১ পূর্বাহ্ন

নোটিশঃ
বরিশাল থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টা্ল "দৈনিক সময়ের খবর"বরিশাল বিভাগের সকল জেলা ও উপজেলা সহ মহানগরীর ৩০ ওয়ার্ড ও ৪ টি থানায় প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হইবে।আগ্রহী প্রার্থীরা ৭ দিনের মধো প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সহ যোগাযোগ করুন।
সংবাদ শিরোনাম :
করোনা জয়ী পুলিশ যোদ্ধাদের সংবর্ধনা দিলেন পুলিশ কমিশনার শাহাবুদ্দিন খান। দীর্ঘ ১২ বছর অপেক্ষিত মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের নিয়োগ,প্রধানমন্ত্রীকে বিএএমটিপি’র কৃতজ্ঞতা ও শুভেচ্ছা। পুত্রসন্তানের জনক হলেন সার্জেন্ট শহিদুল ইসলাম। সংগীতশিল্পী এন্ড্রু কিশোর আর নেই। বরিশালে সড়কের উপর গেট নির্মানের পায়তারা, মেয়রের হস্তক্ষেপ কামনা। সাংবাদিকতার সুযোগ দিচ্ছে “বরিশাল সময়ের খবর” শুদ্ধাচার পুরস্কার পাচ্ছেন প্রফেসর মো. জিয়াউল হক। মহাদুর্যোগে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের পুলিশ হিসেবে নিজেদের তুলে ধরেছি: বিএমপি কমিশনার। যে অভ্যাসগুলো পরিবর্তন করে করোনা মুক্ত থাকবেন। বরিশালে বেড়েছে অনলাইন পন্যের কদর, একধাপ এগিয়ে Twins Butterfly শপ।
ইফতার না খেয়ে নিরুদ্দেশ, শেবাচিম চিকিৎসকের লাশ মিললো ক্লিনিকের কুঠিরে।

ইফতার না খেয়ে নিরুদ্দেশ, শেবাচিম চিকিৎসকের লাশ মিললো ক্লিনিকের কুঠিরে।

শাকিব বিপ্লব: চিকিৎসাগত ক্রুটিতে এক তরুণীর মৃত্যুর ২৪ ঘন্টার ব্যবধানে বরিশালে স্বাস্থ্যখাতে ঘটে গেলো বড় ধরণের অঘটন। শেবাচিম হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. এম এ আজাদ সজলের মৃতদেহ পাওয়া গেলো মমতা স্পেশালাইজড হাসপাতালের লিফটের নিচে। আজ মঙ্গলবার ২৮ এপ্রিল সকালে শহরের কালীবাড়ি সড়কের বহুতল ভবন বিশিষ্ট এই প্রাইভেট হাসপাতালে বিয়োগান্ত এই ঘটনায় গোটা বরিশালে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অধিকাংশ উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে হত্যার রহস্য উম্মোচনে সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত লাশের পাশে পর্যাবেক্ষণ করেছিন। কিন্তু কিভাবে এই চিকিৎসক লিফটের নিচে আসলেন এবং মৃত্যু ঘটলো, তা এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি একটি হত্যাকান্ড। নিহত চিকিৎসক শেবাচিমের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি প্রাইভেট এই হাসপাতালে প্রাকস্টিস করতেন। এবং ওই হাসপাতালের সপ্তম তলার একটি আবাসিক কক্ষে থাকতেন। পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানান গেছে, প্রতিদিনের ন্যায় গতকাল সোমবার মমতা স্পেশালাইজড হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় তার চেম্বারে রোগী দেখে ইফতারের পূর্বে তার আবাসন কক্ষে যান। ইফতার সামগ্রী নিয়ে আসতে হাসপাতালের একজন কর্মচারীকে পাঠিয়ে তিনি ওই কক্ষে অবস্থান করছিলেন। ওই কর্মচারী কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে দেখেন তিনি কক্ষে নেই। এরপর শুরু হয় তার সন্ধান। গভীর রাত অবধি তার কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিলো না। আজ মঙ্গলবার সকালে ওই হাসপাতালের অপর এক কর্মচারী বয়সে বালক কাকতালীয়ভাবে লিফটের নিচে উঁকি দিলে ডাক্তার সজলের রক্ত ভেজা দেহ পরে থাকতে দেখে। এরপরই শুরু হয় হৈচৈ। পুলিশ প্রশাসন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দেখে এই চিকিৎসকের বহু আগেই মৃত্যু ঘটেছে। তার পড়নে পোষাক ছেড়া, পাশে জমাট রক্তের ছোপ-ছাপ দাগ। মাথায় তার আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। পুলিশ বলছে, গোটা ঘটনাটি রহস্যময়। চিকিৎসক কেনো লিফটের নিচে আসবেন, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে ধারণা করা হচ্ছে তাকে কে বা কারা পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ওই স্থানে ফেলে রাখে। লিফট চলাচল করায় কয়েক দফা তার নিচে চাপাও পরতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, হত্যাকারীরা ঘটনা আঁড়াল করতে লিফটের নিচে তার দেহ রেখে চাপা খেয়ে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করতে এই পরিকল্পনার আশ্রয় নিলেও নিতে পারে। তবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মোকতার হোসেন জানান, এটি নিশ্চিত হত্যাকান্ড। কিভাবে তাকে হত্যা করে ওই স্থানে নিয়ে আসা হলো সেই কাহিনীর দুয়ার উন্মোচনে তারা তারা বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখতে চাইছে। এ সময় বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার আকরাম হোসেনসহ কোতয়ালী মডেল থানার ওসি তদন্ত মুকুলসহ পুলিশের বিভিন্ন সংস্থাসহ সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফ’র কর্মকর্তা ও বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য উপস্থিত ছিলো। দীর্ঘ প্রায় সাড়ে ৩ ঘন্টা লাশের পাশে পুলিশের একাধিক টিম অবস্থান করে পর্যাবেক্ষণের চেষ্টা করেন। চিকিৎসকের লাশ উদ্ধারের খবরে সেখানে লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। বিপুল সংখ্যক মিডিয়াকর্মীরাও সেখানে উপস্থিত হয়ে তথ্য উপাত্ত খুঁজতে চেষ্টা করে। পরিস্থিতিতে পুলিশ হাসপাতালটি অনেকটা কর্ডন করে রাখে। খবর পেয়ে সজলের গ্রামের বাড়ি পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার দক্ষিণ-পূর্ব সোহাগদল গ্রাম থেকে তার সহদর উচ্ছ্বাস, খালাতো ভাই খোকন, মামা মনির হোসেন ও চাচা আব্দুল করিম ছুটে আসেন। তারাও হতবাক তাদের এই স্বজনের মৃত্যুর নির্মমতা দেখে। তারাও ধারণা করতে পাচ্ছে না, এই মৃত্যুর পিছনের রহস্য কি? মমতা স্পেশালাইজড হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও কোন ধারণা মিলাতে পারছে না, কিভাবে ডাক্তার সজল লিফটের নিচে আসলেন এবং মৃত্যুবরণ করলেন। স্থানীয় একটি সূত্র ধারণা দিতে চাইছে হাসপাতালের ভিতরে কোন নারীর সাথে এই চিকিৎসকের হৃদয় ঘটিত সম্পর্কের জের ধরে কারো শত্রুতায় হত্যা রূপ নিলো কি না? তবে সজলের সহকর্মীরা জানান, চিকিৎসক হিসেবে অতিব নম্র-ভদ্র এবং অভিজ্ঞ সজল দীর্ঘ দিন যাবত শেবাচিম হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের প্লাস্টিক সার্জন হিসেবে দক্ষতার আলোকে বিভাগের প্রধানের দায়িত্ব পালন করছিরেন। পাশাপাশি বৈকালীক সময় তার আবাসনস্থল কালীবাড়ি সড়কের ওই ক্লিনিকে রোগী দেখতেন। কারো সাথে তার শত্রুতা ছিল এমন কোন উদহারণ কেউ দিতে পারেনি। ধর্মভিরু সজল গত বছর হজ্ব পালন করেন এবং চলতি রমজানেও রোজা রাখছিলেন। মমতা স্পেশালাইজড হাসপাতালের পরিচালক ডা. জহিরুল ইসলাম মানিক তার সহকর্মীর মৃত্যু নিয়ে কোন মন্তব্য করতে নারাজ। তিনিও ঘটনার নেপথ্যের রহস্য অনুধাবনের চেষ্টা করছেন বলে এই প্রতিবেদককে জানান। ডা. জহিরুল ইসলাম মানিক শেবাচিম হাসপাতালের সার্জারী বিভাগের প্রধান। নিখোঁজ সজলের লাশ উদ্ধারের পর তার আচারণ সন্তোষজনক নয় বলে নিহতের স্বজন ও পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা মনে করেন। পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও মিডিয়াকর্মীরা আসার পরই এই চিকিৎসক তার ক্লিনিক ছেড়ে চলে যান। সেখানেই তার নেতিবাচক আচারণের বহিপ্রকাশ ঘটে। উল্লেখ্য, বানারীপাড়ার আদি বাসিন্দা ডা. জহিরুল ইসলাম মানিকের আপন ছোট ভাই মাফুজুর রহমান ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার এবং মিডিয়া শাখার মুখোপাত্র হিসেবে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন। জানা গেছে, ডাক্তার সজল পৈতিক সূত্রে নেছারাবাদের সন্তান হলেও চাকুরী জীবনের পূর্ব থেকেই ঢাকার কেরানীগঞ্জের পূর্ববন্দ ডাকপাড়া এলাকায় জমি ক্রয় করে নির্মিত ভবনে বহুকাল ধরে পরিবার নিয়ে স্থায়ী বসত গড়েন। তার চাচা আব্দুর করিম জানান, সজল ও কহিনুর দম্পতির দুই সন্তানের মধ্যে বড় কণ্যা তাসলিম নবম শ্রেণির ছাত্রী এবং পুত্র তাবিব চর্তুথ শ্রেণিতে অধ্যায়রত। করোনা দূর্যোগের কারণে ছুটি না পাওয়ায় গত দুই মাস যাবত তিনি পরিবার থেকে দূরে ছিলেন। এই রিপোর্ট খেলা পর্যন্ত বিকাল ৩টায় তার লাশ শেবাচিমে মর্গে ছিলো ময়নাতদন্তের অপেক্ষায়। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, ঘটনার ঘতিয়ে দেখার পাশাপাশি ওই হাসপাতালের ওপর নজরদারি রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পরই ধারণা পাওয়া যাবে আসলে কি ঘটেছিলো।

শেয়ার করুন




© dailysomoyerkhobor। সর্বসত্ব সংরক্ষিত।