শনিবার, ১১ Jul ২০২০, ০১:৪৭ পূর্বাহ্ন

নোটিশঃ
বরিশাল থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টা্ল "দৈনিক সময়ের খবর"বরিশাল বিভাগের সকল জেলা ও উপজেলা সহ মহানগরীর ৩০ ওয়ার্ড ও ৪ টি থানায় প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হইবে।আগ্রহী প্রার্থীরা ৭ দিনের মধো প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সহ যোগাযোগ করুন।
সংবাদ শিরোনাম :
করোনা জয়ী পুলিশ যোদ্ধাদের সংবর্ধনা দিলেন পুলিশ কমিশনার শাহাবুদ্দিন খান। দীর্ঘ ১২ বছর অপেক্ষিত মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের নিয়োগ,প্রধানমন্ত্রীকে বিএএমটিপি’র কৃতজ্ঞতা ও শুভেচ্ছা। পুত্রসন্তানের জনক হলেন সার্জেন্ট শহিদুল ইসলাম। সংগীতশিল্পী এন্ড্রু কিশোর আর নেই। বরিশালে সড়কের উপর গেট নির্মানের পায়তারা, মেয়রের হস্তক্ষেপ কামনা। সাংবাদিকতার সুযোগ দিচ্ছে “বরিশাল সময়ের খবর” শুদ্ধাচার পুরস্কার পাচ্ছেন প্রফেসর মো. জিয়াউল হক। মহাদুর্যোগে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের পুলিশ হিসেবে নিজেদের তুলে ধরেছি: বিএমপি কমিশনার। যে অভ্যাসগুলো পরিবর্তন করে করোনা মুক্ত থাকবেন। বরিশালে বেড়েছে অনলাইন পন্যের কদর, একধাপ এগিয়ে Twins Butterfly শপ।
যে অভ্যাসগুলো পরিবর্তন করে করোনা মুক্ত থাকবেন।

যে অভ্যাসগুলো পরিবর্তন করে করোনা মুক্ত থাকবেন।

করোনাভাইরাসের ছোবলে বিপর্যস্ত গোটা দুনিয়া। প্রাণঘাতী এই (COVID-19) ভাইরাসে ইতোমধ্যে বিশ্বব্যাপী আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ১ কোটি মানুষ। মৃত্যু হয়েছে প্রায় ৫ লক্ষ। বিশ্বজুড়ে প্রতি মুহূর্তে বাড়ছে এই আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা।

এখন পর্যন্ত এই ভাইরাসের কোনও সফল ও কার্যকরী প্রতিষেধক আবিষ্কার হয় নি। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কিন্তু এখনো কোন দেশ আলোর মুখ দেখতে পারে নি। এই পরিস্থিতিতে এখন সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হচ্ছে কীভাবে এই ভাইরাস ছড়ায় তা চিহ্নিত করা এবং তা থেকে বেঁচে থাকা।

সামাজিক দূরত্ব, মাস্ক, পিপিই এবং হাত ধোয়ার মাধ্যমে অনেকটাই নিরাপদ থাকা যায়। এর সাথে সাথে বাহির থেকে এসে সতর্কতার সাথে পোষাক, পণ্যসামগ্রী, কাঁচাবাজার, মাছ- মাংস সঠিক ভাবে পরিস্কার ও জীবানু মুক্ত করা একান্ত প্রয়োজন।

শাক-সবজি ও মাছ-মাংস মানুষের দৈনন্দিন খাবারের চাহিদার অন্যতম। আসুন জেনে নেওয়া যাক বাজারে থেকে কিনে আনা ফলমূল শাক-সবজি ও মাছ-মাংস কীভাবে করোনামুক্ত করা যায়।

যেভাবে ফল-মূল ও শাক-সবজি করোনামুক্ত করবেন।

শাক-সবজি বা ফল-মূলের মাধ্যমে করোনাভাইরাস ছড়ায় এমন কোনও বিশেষ প্রমাণ এখনও মেলেনি। তবে এটি অসম্ভবও নয়। বিশ্বস্ত সংস্থাগুলোর মতে, এই ধরনের তাজা খাবার যেমন: শাক-সবজি ও ফল-মূল চলন্ত পানির নিচে অর্থাৎ কল ছেড়ে পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। এক্ষেত্রে একটু সময় নিয়ে কচলিয়ে ধুয়ে নেওয়া উচিত।

অনেকের কাছে হয়তো শুনে থাকবেন পানিতে ভিজিয়ে রাখার কথা। তবে সেক্ষেত্রেও কচলিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। শুধু ভিজিয়ে রাখলে কিছু কিছু জায়গায় জীবাণু থেকে যেতে পারে। তাই কচলিয়ে ধোয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

আর মাছ-মাংসের ক্ষেত্রে ইউরোপ আমেরিকার সংস্থাগুলো বলছে না ধুয়ে রান্না করতে। মাংস একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ তাপ দিয়ে রান্না করলে তাতে জীবাণু বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। তবে এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল আমাদের দেশে যে উপায়ে বা যে পরিবেশে মাংস বিক্রি হয় তাতে না ধুয়ে খাওয়াটা সমীচিন হবে না।

তাই মাংস ধোয়ার ক্ষেত্রে যে সাবধনতা অবলম্বন করতে হবে সেটা হচ্ছে, আশেপাশে যেন ফল-মূল, শাক-সবজি বা সেগুলো কাটার যন্ত্রপাতি কিংবা সেগুলোর থালা-বাসন না থাকে। এগুলো আশেপাশে রাখলে জীবাণু ছিটে সেখানে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

আর সব ধরনের সবজি আমরা অনেক বেশি তাপ দিয়ে রান্না করে খাই না। মাঝে মাঝে কিছু কিছু সবজি সালাদে খাওয়া হয়। তাছাড়া ফল-মূল বেশির ভাগ কাচা খাওয়া হয়। তাই তাতে ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা থেকে যায়।

আর খেয়াল রাখতে হবে মাংস ধোয়ার সময় শরীরে যেন পানি ছিটে না যায়। আর পানি ছিটে গেলেও পরে তা সাবান দিয়ে ভালভাবে ধুয়ে নিতে হবে।

এছাড়া, মাংস কাটার জন্য যে বটি, চাকু বা কাটিং বোর্ড ইত্যাদি ব্যবহার করবেন তা শাক-সবজি কাটার জন্য ব্যবহার করবে না। এগুলোর জন্য আলাদা বটি-চাকু ব্যবহার করুন। আর তা সম্ভব না হলে এক প্রকার খাবার কাটার পর অন্য প্রকার খাবার কাটার আগে গরম পানি ও সাবান দিয়ে সেগুলো ভালভাবে ধুয়ে নিতে হবে।

করোনার সাথে সাথে আমাদের অভ্যাস পরিবর্তন করে টিকে থাকতে হবে তাই
আসুন জেনে নেই যে অভ্যাসগুলো পরিবর্তন করে করোনা মুক্ত থাকবেন।

সরকারি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলি। হাঁচি কাশির শিষ্টাচার মেনে চলি। মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস, নিরাপত্তা চশমা ব্যবহার করি। গ্লাভস্ প্রয়োজন নেই যদি বারবার হাত ধোয়া যায়- বরং গ্লাভ্স্ এ জীবানু লেগে থাকার রিস্ক থাকে। মাস্কের সাথে ফেসশিল্ড ব্যবহার করতে পারি। বাইরে বের হলে মাস্কের উপর হেলমেটও পড়তে পারি বিশেষ করে যারা বাইকার। অপ্রয়োজনীয় লোকসমাগম এড়িয়ে চলি। আগামী অন্তত ৬ মাস আরো দ্বিগুণ সাবধান হই। বাহিরে বেরুল পকেটে সবসময় স্যানিটাইজার রাখি,প্রতি আধঘন্টা পর পর হাত পরিষ্কার করি। পকেটে সব সময় কিছু রুমাল টিস্যু রেখে দেই। মোবাইল ফোনটি একটি পলিথিনে রাখি। প্রয়োজন মত পলিথিন স্প্রে করে মুছে নেয়া যাবে। হেডফোন না নেয়াই ভাল। স্পিকার মোডে কল রিসিভ করি। পাবলিক ট্রান্সপোর্ট এড়িয়ে চলি, এটা সবচেয়ে রিস্কি জায়গা। বাড়ির বাইরে খাওয়া এড়িয়ে চলি, শুকনো high calorie snacks যেমন বাদাম, শুকনো ফল অল্প সাথে রাখি, নিজের খাবারপানি তো বটেই। বাইরে বা কাজে খাবার বা পানি বা সিগারেট শেয়ারিং বন্ধ করি। বাইরে থেকে বা বাজারে পাওয়া টাকা-নোট আলাদা পলিথিনে এনে পারলে তিনদিন একটা ট্রেতে রেখে দেই। যেখানে সেখানে হেলান দেওয়া, বসা, কনুইয়ে ভর দেওয়া অভ্যাস গুলো পরিত্যাগ করি।একটা ক্যাপ মাথায় থাকলে ভালো, মহিলাদের ক্ষেত্রে ওড়না, হিজাব, বোরখা রাখতে পারেন। কাপড়ের ব্যাগ নিয়ে বের হই- যা প্রায়ই ধোয়া যাবে- লেদার বা মোটা ক্যানভাসের ব্যাগের ফ্যাশন বাদ দেই। ঘড়ি মেটাল দিয়ে তৈরি। ঘড়িতে হাতের চেয়ে বেশি সময় ভাইরাসটি থাকে তাই ঘড়ি পড়া বন্ধ করে দিন। অনেকেই বাবার দরবারের আংটি, মাদলি, তাবিজ ব্যবহার করে থাকেন। এগুলো খুলে ফেলুন। কারণ মেটালে ভাইরাস ৭২ ঘন্টার বেশি সময় থাকে। মা বোনেরা জুয়েলারী ব্যবহার বন্ধ রাখুন। পাবলিক ওয়াশরুম- বুঝে শুনে ব্যবহার করতে হবে। যতবার বাইরে যাবো ফিরে আসার পর মাস্ক অবশ্যই চেন্জ করতে হবে- স্পেয়ার ক্যারি করা ভালো। বাজারে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে দ্রুত বাজার সেরে ফেলতে হবে। গণপরিবহণে খুব সাবধানতা অবলম্বন করে চলতে হবে। ব্যায়াম সহ নিয়ম শৃঙ্খলা মেনে সময় মত প্রয়োজনীয় ঔষধ, ভিটামিন সি ও ডি যুক্ত খাবার সহ দৈনন্দিন খাবার ও ঘুম যেতে হবে।

লেখকঃ প্রভাষক আমিনুর রহমান শামীম, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন এটুআই ও ব্রাক কর্তৃক COVID-19 প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ), বরিশাল মহানগর, বরিশাল।

শেয়ার করুন




© dailysomoyerkhobor। সর্বসত্ব সংরক্ষিত।